মো: রিয়াদ হোসেন (আদনান রিয়াদ)
"কর্মে বিশ্বাসী" গবেষণা এবং কোডিং করতে অনেক ভালো লাগে
📖 জীবন সংগ্রাম ও সফলতার গল্প
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
২০০১ — শৈশবের কঠিন বাস্তবতা
মাত্র ৭ বছর বয়সে বাবাকে হারাই। সেখান থেকেই শুরু হয় জীবন সংগ্রাম। বেড়ে ওঠা এতিমখানায়। অভাবের তাড়নায় ২০০৮ সালে ৭ম শ্রেণী পাসের পর পড়াশোনা সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়।
২০০৯ — কম্পিউটারের প্রতি ভালোবাসা ও শুরু
২০০৯ সালে ক্লোজ এক মামা পার্শ্ববর্তী একটি কম্পিউটার দোকানে ফটোকপি অপারেটর হিসেবে যোগদান করায়। ভবিষ্যতে কম্পিউটার শিখা হবে এই আশায় আমিও অনেক আশা নিয়ে যোগদান করি। ফটোকপি অপারেটর ছিলাম ঠিকি আমার মন প্রাণ ঢুকে থাকতো কম্পিউটারে। সারাদিন শুধু একটাই আকাঙ্খা ইশ! যদি কম্পিউটার টা একটু ধরতে পারতাম! তারপর প্রত্যেক নামাজে শুধু আল্লাহর কাছে একটাই জিনিস চাইতাম "আল্লাহ তুমি আমাকে কম্পিউটার টা শিখাও"। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করে নিলো ৬ মাস না যেতেই আমি হয়ে গেলাম কম্পিউটার অপারেটর। ফটোকপি অপারেটর থেকে নিয়োগ পেলাম কম্পিউটার অপারেটরে সেই দোকানেই। ২০০৯ সালে কম্পিউটার শিখাটা মোটেও সহজ ছিলো না। ছিলো না তখন ইন্টারনেট, ইউটিউব ফেসবুকসহ অনলাইন শেখার অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম। আল্লাহ পাক মোমিনুল ভাই নামের একজন বড় ভাইকে পরিচয় করারি দিলেন। তিনি আমাকে কম্পিউটারের বেসিক টা এত্ত স্ট্রং ভাবে শিখিয়েছেন যে সেই বেসিক ই হয়ে গেলো আমার জন্য বিদ্যার সাগর।
২০১১ থেকে ডিগ্রি — শিক্ষাজীবনের জয়যাত্রা
২০১১ সালের শুরুর দিকে এক স্যার অনেক পরামর্শ দিলো "রিয়াদ তুমি পড়াশুনা শুরু করো। এই কাজের পাশাপাশি তোমার পড়াশুনাটা করা জরুরী, যা তোমাকে এক সময় ভালো পর্যায়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।" ইন-শা-আল্লাহ। বাস! স্যারের কথা আমি শুনলাম ২০১১ সালের এপ্রিল-মে মাসের দিকে আমি ভর্তি হয়ে গেলাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রামে। আলহামুদলিল্লাহ। সফলভাবে এসএসসি 3.30 জিপিএ পেয়ে পাশ করলাম তারপর আসলাম দিনাজপুর বোর্ডে সেখান থেকে এইচএসসি পাশ করলাম ২০১৭ সালে 2.83 জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হলাম কোনো ফেল ছাড়াই। তাররপর এখন আমি ডিগ্রী পাস দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে 2.39 জিপিএ পেয়ে। উল্লেখ্য যে, শিক্ষা জীবনে কোনো ফেল ছিল বা ইয়ার লস ছিলো না। আলহামদুলিল্লাহ।
২০১৭ থেকে বর্তমান — গ্রাফিক্স ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট
দিনাজপুরের সুনামধন্য "কর্ণফুলী প্রিন্টিং প্রেস"-এ ৪ বছর সিনিয়র গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করি। ২০১৭ সাল থেকেই একটু একটু করে সফটওয়্যার তৈরির পিছনে মেধা ও সময় দেওয়া শুরু করি। আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং সবার ভালোবাসায় আজকে এই সফটওয়্যারটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি।
⚡ দক্ষতা ও বিশেষ অভিজ্ঞতা
🤲 চাওয়া ও বার্তা
আল্লাহর কাছে সর্বদা সুস্থ শরীর চাই। আল্লাহ যেন হালালভাবে বেঁচে থাকার মাধ্যমে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছায়। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। জীবনে কখনো হিংসা করা যাবে না। নিজের চেষ্টা এবং আল্লাহর রহমত নিয়েই এগোতে হবে আমাদের।